বোনাস, পেমেন্ট সিস্টেম, অডসের মান, কাস্টমার সার্ভিস – সব দিক নিয়ে একটা খোলামেলা আলোচনা। যারা ev66-এ যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্যই এই রিভিউ।
৫,২৩৭ জনের রেটিং
ev66 মূলত বাংলাদেশের বাজারকে মাথায় রেখে তৈরি একটি অনলাইন বেটিং ও গেমিং প্ল্যাটফর্ম। যারা আগে বিদেশি সাইটে ইংরেজিতে হিমশিম খেতেন, তাদের জন্য এটা বেশ বড় স্বস্তির জায়গা। প্ল্যাটফর্মে ঢুকলেই বোঝা যায় যে ডিজাইন থেকে শুরু করে কাস্টমার সার্ভিস পর্যন্ত সবকিছু বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের কথা ভেবেই সাজানো। নতুন যে কেউ প্রথমবার ঢুকলে সহজেই বুঝতে পারবেন কোথায় কী আছে – রেজিস্ট্রেশন বাটন থেকে শুরু করে বেট স্লিপ পর্যন্ত সব বাংলায়।
ev66-এ অ্যাকাউন্ট খোলা মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটের কাজ। মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP যাচাই করলেই কাজ শেষ। প্রথম ডিপোজিটের আগে কোনো ডকুমেন্ট লাগে না, তবে বড় পরিমাণে উইথড্র করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে যাচাই করতে হয়। অনেকে হয়তো এটা ঝামেলার মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এটা আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্যই করা। যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়।
নতুন সদস্যদের জন্য ১০০% ওয়েলকাম বোনাস হলো ev66-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অফার। ধরুন আপনি ৫০০ টাকা ডিপোজিট করলেন – তাহলে মোট ১,০০০ টাকা দিয়ে খেলা শুরু করতে পারবেন। তবে বোনাসের টাকা সরাসরি তোলা যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ বেট করার পর সেটা আসল টাকায় রূপান্তরিত হয়। ওয়েজারিং শর্ত অনেক প্ল্যাটফর্মের তুলনায় যুক্তিসংগত – ৫x থেকে ৮x পর্যন্ত। এর পাশাপাশি নিয়মিত সদস্যদের জন্য সাপ্তাহিক ক্যাশব্যাক, রিলোড বোনাস ও ফেস্টিভ অফার আসতে থাকে। বিপিএল বা বিশ্বকাপের মৌসুমে বিশেষ প্রমোশন প্যাকেজ দেওয়া হয় যেটা বেশ ভালো।
এই জায়গায় ev66 সত্যিকার অর্থেই এগিয়ে আছে। বিকাশ, নগদ আর রকেট – এই তিনটি পদ্ধতিতে মাত্র কয়েক মিনিটে ডিপোজিট হয়ে যায়। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে ডিপোজিট করা যায়, যেটা নতুনদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। উইথড্রও তুলনামূলক দ্রুত – বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৩০ মিনিটের মধ্যে মোবাইলে টাকা চলে আসে। ব্যাংক ট্রান্সফারে একটু বেশি সময় লাগে, তবে কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেই। এই সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে যারা আগে বিদেশি প্ল্যাটফর্মে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে জটিলতায় পড়তেন, তারা এখানে স্বস্তি পাবেন।
স্পোর্টস বেটিংয়ে অডসের মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ev66-এর অডস সাধারণত বাজারের গড়ের সমান বা কিছুটা বেশি থাকে, বিশেষত ক্রিকেটে। আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে অডস বেশ প্রতিযোগিতামূলক। ফুটবলে ইউরোপিয়ান লিগগুলোতে অডস ভালো, কিন্তু ছোট লিগে মাঝে মাঝে একটু কম দেখা যায়। লাইভ বেটিংয়ে অডস যে গতিতে পরিবর্তন হয় সেটা বেশ চমৎকার – দ্রুত রিফ্রেশ হয় বলে মিস করার সুযোগ কম।
বিকাশে ডিপোজিট করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেট করতে পেরেছি, আর জেতার পরে আধা ঘণ্টার মধ্যে টাকা ব্যাক। এর আগে অন্য সাইটে দুই দিন অপেক্ষা করতে হতো। ev66-এর পেমেন্ট সিস্টেমটা সত্যিই অনেক ভালো।
আমি আগে কখনো অনলাইনে বেটিং করিনি। ev66-এর বাংলা ইন্টারফেসের কারণে শুরুটা সহজ হয়েছে। কাস্টমার সার্ভিসে চ্যাট করেছিলাম, বাংলায় খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। নতুনদের জন্য এটাই সেরা।
বিপিএলের সময় লাইভ বেটিং করি প্রতিটা ম্যাচে। অডস রিফ্রেশ হওয়ার গতি দারুণ। ক্যাশ আউট ফিচারটা আমার জন্য গেম চেঞ্জার – একটা উইকেট পড়লে সাথে সাথে বেট সেটেল করে নিতে পারি।
ক্রিকেটের অডস বেশ ভালো। তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যে মনে হয় অন্য জায়গায় একটু বেশি পাচ্ছি। ওয়েলকাম বোনাসটা পেয়েছিলাম, সেটা দিয়ে ভালোই শুরু হয়েছিল। সব মিলিয়ে সন্তুষ্ট।
মোবাইল অ্যাপটা সত্যিই হালকা আর দ্রুত। পুরনো ফোনেও ভালো চলে। নগদ দিয়ে ডিপোজিট করি সবসময়, কোনো সমস্যা হয়নি। রাতের ম্যাচে লাইভ সাপোর্ট পেয়েছি, সেটা ভালো লেগেছে।
অ্যাকিউমুলেটর বেট করি নিয়মিত। একদিন পাঁচটা ম্যাচ একসাথে জিতে ভালো রিটার্ন পেয়েছিলাম। ev66-এর মাল্টি-বেট সিস্টেম খুব সহজ, বেট স্লিপে সব ক্যালকুলেশন অটোমেটিক দেখায়।
| বৈশিষ্ট্য | ev66 | সাধারণ প্ল্যাটফর্ম |
|---|---|---|
| বাংলা ভাষায় ইন্টারফেস | ||
| বিকাশ / নগদ / রকেট | ||
| ক্যাশ আউট ফিচার | আংশিক | |
| বাংলা কাস্টমার সাপোর্ট | ||
| সর্বনিম্ন ডিপোজিট ১০০ টাকা | ||
| ওয়েলকাম বোনাস ১০০% | ২০–৫০% | |
| লাইভ স্ট্রিমিং | সীমিত | |
| মোবাইল অ্যাপ (Android + iOS) | ||
| উইথড্র সময় (মোবাইল ব্যাংকিং) | ১৫–৩০ মিনিট | ১–৩ দিন |
| পেআউট রেট | ৯৭% | ৯২–৯৫% |
বাংলাদেশের বাজারে বাংলা ভাষায় একটি পূর্ণাঙ্গ বেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করার লক্ষ্যে ev66-এর যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ক্রিকেট ও ফুটবল – এই দুটি স্পোর্টস দিয়ে শুরু।
বিকাশ ও নগদের সাথে সংযোগ স্থাপিত হয়, যা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারী সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই পদক্ষেপটি ev66-কে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে তোলে।
ইন-প্লে বেটিং সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে বিপিএল ও আইপিএলের সময় ব্যাপক সাড়া পড়ে। একই সাথে ক্যাশ আউট ফিচার যোগ হয়।
Android ও iOS দুই প্ল্যাটফর্মে মোবাইল অ্যাপ প্রকাশিত হয়। হালকা সাইজ ও দ্রুত লোডিং টাইমের কারণে কম স্পিডের ইন্টারনেটেও অ্যাপটি সুন্দরভাবে কাজ করে।
প্রো কাবাডি লিগ, টেনিস, বাস্কেটবলসহ ৩০টিরও বেশি স্পোর্টস ক্যাটাগরি যুক্ত হয়। ev66 এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্তৃত স্পোর্টস বেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি।
| সদস্য | ৫ লা খেরও বেশি |
| স্পোর্টস | ৩০+ |
| পেমেন্ট | বিকাশ, নগদ, রকেট |
| ভাষা | বাংলা, ইংরেজি |
| মিন ডিপোজিট | ১০০ টাকা |
| মিন উইথড্র | ২০০ টাকা |
| পেআউট রেট | ৯৭% |
| সাপোর্ট | ২৪/৭ বাংলায় |